পোস্টগুলি

আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের উন্নয়নচিত্র

ছবি
 আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের উন্নয়নচিত্র ১. শিক্ষা খাতে উন্নয়ন বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচি চালু (প্রতি বছর ৪০ কোটিরও বেশি বই বিতরণ)। প্রাথমিক শিক্ষায় বিনামূল্যে শিক্ষা ও ভর্তুকি বৃদ্ধি। বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের জন্য ভাতা চালু। ডিজিটাল ক্লাসরুম ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা। ২. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল প্রায় ৪,০০০ মেগাওয়াট, বর্তমানে ২৫,০০০ মেগাওয়াটের বেশি। শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী প্রকল্প। ৩. অবকাঠামো উন্নয়ন পদ্মা সেতু নির্মাণ (নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্বের দৃষ্টান্ত)। মেট্রোরেল (ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট, MRT-6) চালু। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত। নতুন সেতু, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে ও রেললাইন নির্মাণ। ৪. তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল বাংলাদেশ “ডিজিটাল বাংলাদেশ” ভিশন বাস্তবায়ন। ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল ...

বুকের ভিতর অজানা কষ্ট

ছবি
বুকের ভিতর অজানা কষ্ট রাত নামলে পৃথিবীটা নিঃশব্দ হয়ে যায়। শহরের কোলাহল থেমে গেলে, দূরের আলো নিভে গেলে, চারপাশের অন্ধকারে কেবল একটা ভারী নীরবতা বাজতে থাকে। সেই নীরবতা যেন বুকের গভীর থেকে উঠে আসে, যেন কারও অদৃশ্য হাত এসে হঠাৎ থেমে থাকা হৃদস্পন্দনকে ছুঁয়ে দেয়। কেন জানি মনে হয়— কোথাও কিছু হারিয়ে গেছে, অথচ আমি জানি না কী। অপ্রাপ্তির ছায়া আমাকে প্রতিদিন অনুসরণ করে, ভালোবাসার অপূর্ণতা যেন কুয়াশার মতো ঢেকে রাখে আমার দৃষ্টি। যাকে চাই, তাকে পাই না; যাকে পাই, তাকে ঠিক নিজের মতো করে ধরে রাখতে পারি না। ভালোবাসা অনেকটা নদীর মতো— সে আসে, ছুঁয়ে যায়, কিন্তু কখনো সম্পূর্ণভাবে আঁকড়ে ধরে না। স্রোতের টানে ভেসে যায় স্মৃতির বালি, আর তীরের ধারে বসে থাকা আমি কেবল শুনি ফিসফিস শব্দ— অপূর্ণতার দীর্ঘশ্বাস। কত কথা জমে আছে বুকের ভেতর! অসংখ্য অনুচ্চারিত বেদনা, যেগুলো বলতে গেলে কণ্ঠ আটকে যায়। মানুষ ভাবে আমি হাসছি, আমি স্বাভাবিক— কেউ বোঝে না যে এই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অনন্ত হাহাকার, এক অস্পষ্ট কান্না, এক অজানা ব্যথা, যা প্রকাশের ভাষা খুঁজে পায় না। একাকীত্ব আসলে মানুষকে খেয়ে ফেলে না— বরং ভেতর থেকে ধীরে ধীরে গলিয়ে দ...

নিঃশব্দ মানুষের দীর্ঘশ্বাস

ছবি
  শহরের ভিড়ভাট্টা পেরিয়ে, এক কোণে বসবাস করত রফিক নামের এক মানুষ। সবাই তাকে চিনত, কিন্তু কেউ তাকে সত্যি করে জানত না। বাইরে থেকে সে ছিল হাসিখুশি—দোকানে গেলে হেসে দাম দিত, পাশের বাড়ির ছেলেমেয়েদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিত, রাস্তা পার হতে কারও সাহায্য চাইলে এগিয়ে যেত। কিন্তু তার ঘরের ভেতরটা ছিল একেবারে অন্য রকম। চারপাশে শুধু নীরবতা। বিছানার পাশে রাখা পুরনো ছবি—যেখানে তার স্ত্রী আর ছোট্ট মেয়েটি ছিল—চোখে পড়লেই বুকটা মোচড় দিয়ে উঠত। স্ত্রী আর মেয়েকে সে হারিয়েছে এক সড়ক দুর্ঘটনায়। সেই রাতটা যেন রফিকের জীবনকে চিরদিনের জন্য অন্ধকার করে দিয়েছিল। প্রতিদিন রাত হলে রফিক জানলার পাশে বসে আকাশের দিকে তাকাত। মনে হতো, তার প্রিয়জনরা হয়তো ওখানেই কোথাও আছে। সে মনের ভেতর ফিসফিস করে বলত— “তোমরা ভালো আছো তো? আমি একা বড্ড কষ্টে আছি।” কেউ শুনত না, কিন্তু তার বুকের ভেতরে জমে থাকা দীর্ঘশ্বাসগুলো যেন আকাশ ছুঁয়ে যেত। মানুষ তাকে জিজ্ঞেস করত— “রফিক ভাই, এত একা একা থাকেন কেন?” সে শুধু হেসে বলত— “আমি ভালো আছি।” কিন্তু সত্যিটা ছিল, সে একেবারেই ভালো নেই। দিনের আলোয় যতই হাসির মুখোশ পড়ুক, রাতের আঁধারে রফিক ...

শেষ চিঠি

ছবি
শেষ চিঠি বরিশালের এক ছোট্ট শহরে মিলন নামে এক যুবক বাস করত। জীবন তার খুব সাধারণ হলেও হৃদয়ের ভেতর ছিল অগাধ স্বপ্ন। সে লিখতে ভালোবাসত—কবিতা, গল্প আর চিঠি। কিন্তু একদিন শহরে এল নতুন মেয়ে—আফসানা। মিলনের চোখে প্রথম দেখাতেই অদ্ভুত আলো জ্বলে উঠল। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে কথাবার্তা, বন্ধুত্ব আর তারপর নিঃশব্দে প্রেম জন্ম নিল। তবু ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা ছিল অন্যরকম। আফসানার পরিবার তাকে শহর ছেড়ে দূরে নিয়ে গেল। মিলনের কাছে রয়ে গেল শুধু স্মৃতি আর আফসানার দেয়া শেষ হাসি। সে লিখল এক দীর্ঘ চিঠি— “তুমি যদি ফিরে না আসো, তবে আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব, যতদিন আকাশে তারারা জ্বলতে থাকে।” চিঠিটা আফসানার হাতে পৌঁছাল কি না, তা আর কেউ জানে না। শুধু শহরের নদীর ধারে, মিলনের নিরব চোখ আজও সন্ধ্যার আলোয় খুঁজে ফেরে সেই হারানো ভালোবাসাকে।  

পড়ন্ত বিকেলের ফুল

ছবি
আকাশে সূর্য ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছিল। সোনালি আলো গোধূলির মেঘকে রাঙিয়ে তুলছিল লাল-কমলা রঙে। গ্রামের পাশের সেই ছোট্ট মাঠে দাঁড়িয়ে ছিল তারা দু’জন। চারপাশ নিস্তব্ধ, শুধু বাতাসে দোল খাওয়া ঘাসের মৃদু শব্দ আর দূরের পাখির ডাক। তারা দু’জন দীর্ঘদিনের বন্ধু, অথচ মনে-মনে একে অন্যের জন্য জমে থাকা অনুভূতির কথা কখনো প্রকাশ করা হয়নি। আজ বিকেলটা যেন অন্যরকম—এক অজানা সাহস জমে উঠেছে ছেলেটির হৃদয়ে। হাতে ধরা রঙিন ফুলগুলো কাঁপছিল নার্ভাস স্পর্শে। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল মেয়েটির সামনে। মেয়েটি অবাক হয়ে তাকাল, চোখে এক ঝলক কৌতূহল আর মিষ্টি হাসি। — “এই ফুলগুলো তোমার জন্য…” মেয়েটি ফুলগুলো হাতে নিয়ে মুহূর্তের জন্য কিছু বলতে পারল না। চোখ নামিয়ে আবার তাকাল তার দিকে। বিকেলের আলোতে তাদের চোখ দুটো যেন আটকে গেল এক অদ্ভুত জ্যোতিতে। একে অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকা সেই নীরব মুহূর্তেই মনে হলো, ভাষার প্রয়োজন নেই—চোখের দৃষ্টিই সব বলে দিচ্ছে। হাওয়ায় ফুলের ঘ্রাণ ভেসে এলো, মেয়েটির চুল ছুঁয়ে দিল। সে আলতো করে একটুখানি লাজুক হাসি দিল। আর সেই হাসিতে ছেলেটির মন ভরে গেল অদ্ভুত উষ্ণতায়। সেদিন পড়ন্ত বিকেল শুধু একটি ফুলের আ...

বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের দলীয় পদ স্থগিত: সমসাময়িক রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন

ছবি
 বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের দলীয় পদ স্থগিত: সমসাময়িক রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন ২৬ আগস্ট ২০২৫, ঢাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে তিন মাসের জন্য দলীয় পদ থেকে স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। সম্প্রতি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে দেওয়া তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয় দলীয় উচ্চপর্যায়। কেন স্থগিত করা হলো : ২৪ আগস্ট ফজলুর রহমানকে একটি শোকজ নোটিশ পাঠায় বিএনপি। অভিযোগ ছিল, তাঁর বক্তব্যে “কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর” শব্দচয়ন ছিল, যা দলের ভাবমূর্তি ও ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হেনেছে। তিনি সময় চেয়ে আবেদন করায় ২৫ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু তাঁর চার পাতার লিখিত জবাব দলীয় মহলকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। ফলে ২৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সব পদ — এমনকি প্রাথমিক সদস্যপদও — তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। দলীয় সিদ্ধান্তের পেছনের বার্তা: দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ফজলুর রহমানের অবদানকে সম্মান জানিয়েই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিয়ে আপেক্ষিক দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে টকশো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা যে কোনো বক্তব্যে ...

ভাইরাল ত্রাণ দাতা বর্তমান সময়ের ভাইরাল ট্রেন্ড নিয়ে একটি গল্প)

ছবি
(বর্তমান সময়ের ভাইরাল ট্রেন্ড) "আসসালামু আলাইকুম ভাই ও বোনেরা! আমি এখন একটা অসহায় পরিবারের বাড়িতে এসেছি, যারা দুইদিন ধরে না খেয়ে আছে। আপনারা দেখুন, এই বৃদ্ধাকে দেখুন—এখনো মুখে হাসি রেখে দাঁড়িয়ে আছেন...  মোবাইল ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সরোয়ার এই কথাগুলো বলল, আর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধা অপ্রস্তুতভাবে ঠোঁট চেপে ধরলেন। সরাসরি লাইভ চলছিল। কমেন্ট আসছিল ঝড়ের মতো: “ভাই আপনি দেবতা” “আল্লাহ আপনাকে হায়াত দিন” “আপনার মতো লোকই আসল মানুষ” লাইভ শেষ করে সরোয়ার বৃদ্ধার হাতে একটা প্যাকেট দিলেন। তাতে কিছু চাল, ডাল আর একটি তার চ্যানেলের প্যাম্পলেট। বৃদ্ধা বললেন, “ছেলে, একটা ছবি তোলো না, মেয়েটা ভাববে আমার খবর কেউ রাখে…” সেই বৃদ্ধাকে পাশে বসিয়ে ১০টা ছবি তোলা হলো। বিভিন্ন ক্যাপশন তৈরি হলো— “এক মায়ের কান্না” “ত্রাণ নয়, ভালোবাসা দিতে শিখুন” “যারা সরকারের টাকা খায়, তারা দেখুক এই ভিডিও!” 🔥 ৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভাইরাল ১০ লাখ ভিউ ১ লাখ রিয়্যাকশন কয়েক হাজার শেয়ার পত্রিকায় শিরোনাম: “ত্রাণযোদ্ধা সরোয়ার: সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন নায়ক” সরোয়ার এখন টকশোতে যায়, ইউটিউব থেকে ইনকাম করে, কিছু এনজিওর কাছ থ...