পোস্টগুলি

আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের উন্নয়নচিত্র

ছবি
 আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের উন্নয়নচিত্র ১. শিক্ষা খাতে উন্নয়ন বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচি চালু (প্রতি বছর ৪০ কোটিরও বেশি বই বিতরণ)। প্রাথমিক শিক্ষায় বিনামূল্যে শিক্ষা ও ভর্তুকি বৃদ্ধি। বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের জন্য ভাতা চালু। ডিজিটাল ক্লাসরুম ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা। ২. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল প্রায় ৪,০০০ মেগাওয়াট, বর্তমানে ২৫,০০০ মেগাওয়াটের বেশি। শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী প্রকল্প। ৩. অবকাঠামো উন্নয়ন পদ্মা সেতু নির্মাণ (নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্বের দৃষ্টান্ত)। মেট্রোরেল (ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট, MRT-6) চালু। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত। নতুন সেতু, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে ও রেললাইন নির্মাণ। ৪. তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল বাংলাদেশ “ডিজিটাল বাংলাদেশ” ভিশন বাস্তবায়ন। ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল ...

বুকের ভিতর অজানা কষ্ট

ছবি
বুকের ভিতর অজানা কষ্ট রাত নামলে পৃথিবীটা নিঃশব্দ হয়ে যায়। শহরের কোলাহল থেমে গেলে, দূরের আলো নিভে গেলে, চারপাশের অন্ধকারে কেবল একটা ভারী নীরবতা বাজতে থাকে। সেই নীরবতা যেন বুকের গভীর থেকে উঠে আসে, যেন কারও অদৃশ্য হাত এসে হঠাৎ থেমে থাকা হৃদস্পন্দনকে ছুঁয়ে দেয়। কেন জানি মনে হয়— কোথাও কিছু হারিয়ে গেছে, অথচ আমি জানি না কী। অপ্রাপ্তির ছায়া আমাকে প্রতিদিন অনুসরণ করে, ভালোবাসার অপূর্ণতা যেন কুয়াশার মতো ঢেকে রাখে আমার দৃষ্টি। যাকে চাই, তাকে পাই না; যাকে পাই, তাকে ঠিক নিজের মতো করে ধরে রাখতে পারি না। ভালোবাসা অনেকটা নদীর মতো— সে আসে, ছুঁয়ে যায়, কিন্তু কখনো সম্পূর্ণভাবে আঁকড়ে ধরে না। স্রোতের টানে ভেসে যায় স্মৃতির বালি, আর তীরের ধারে বসে থাকা আমি কেবল শুনি ফিসফিস শব্দ— অপূর্ণতার দীর্ঘশ্বাস। কত কথা জমে আছে বুকের ভেতর! অসংখ্য অনুচ্চারিত বেদনা, যেগুলো বলতে গেলে কণ্ঠ আটকে যায়। মানুষ ভাবে আমি হাসছি, আমি স্বাভাবিক— কেউ বোঝে না যে এই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অনন্ত হাহাকার, এক অস্পষ্ট কান্না, এক অজানা ব্যথা, যা প্রকাশের ভাষা খুঁজে পায় না। একাকীত্ব আসলে মানুষকে খেয়ে ফেলে না— বরং ভেতর থেকে ধীরে ধীরে গলিয়ে দ...

নিঃশব্দ মানুষের দীর্ঘশ্বাস

ছবি
  শহরের ভিড়ভাট্টা পেরিয়ে, এক কোণে বসবাস করত রফিক নামের এক মানুষ। সবাই তাকে চিনত, কিন্তু কেউ তাকে সত্যি করে জানত না। বাইরে থেকে সে ছিল হাসিখুশি—দোকানে গেলে হেসে দাম দিত, পাশের বাড়ির ছেলেমেয়েদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিত, রাস্তা পার হতে কারও সাহায্য চাইলে এগিয়ে যেত। কিন্তু তার ঘরের ভেতরটা ছিল একেবারে অন্য রকম। চারপাশে শুধু নীরবতা। বিছানার পাশে রাখা পুরনো ছবি—যেখানে তার স্ত্রী আর ছোট্ট মেয়েটি ছিল—চোখে পড়লেই বুকটা মোচড় দিয়ে উঠত। স্ত্রী আর মেয়েকে সে হারিয়েছে এক সড়ক দুর্ঘটনায়। সেই রাতটা যেন রফিকের জীবনকে চিরদিনের জন্য অন্ধকার করে দিয়েছিল। প্রতিদিন রাত হলে রফিক জানলার পাশে বসে আকাশের দিকে তাকাত। মনে হতো, তার প্রিয়জনরা হয়তো ওখানেই কোথাও আছে। সে মনের ভেতর ফিসফিস করে বলত— “তোমরা ভালো আছো তো? আমি একা বড্ড কষ্টে আছি।” কেউ শুনত না, কিন্তু তার বুকের ভেতরে জমে থাকা দীর্ঘশ্বাসগুলো যেন আকাশ ছুঁয়ে যেত। মানুষ তাকে জিজ্ঞেস করত— “রফিক ভাই, এত একা একা থাকেন কেন?” সে শুধু হেসে বলত— “আমি ভালো আছি।” কিন্তু সত্যিটা ছিল, সে একেবারেই ভালো নেই। দিনের আলোয় যতই হাসির মুখোশ পড়ুক, রাতের আঁধারে রফিক ...

শেষ চিঠি

ছবি
শেষ চিঠি বরিশালের এক ছোট্ট শহরে মিলন নামে এক যুবক বাস করত। জীবন তার খুব সাধারণ হলেও হৃদয়ের ভেতর ছিল অগাধ স্বপ্ন। সে লিখতে ভালোবাসত—কবিতা, গল্প আর চিঠি। কিন্তু একদিন শহরে এল নতুন মেয়ে—আফসানা। মিলনের চোখে প্রথম দেখাতেই অদ্ভুত আলো জ্বলে উঠল। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে কথাবার্তা, বন্ধুত্ব আর তারপর নিঃশব্দে প্রেম জন্ম নিল। তবু ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা ছিল অন্যরকম। আফসানার পরিবার তাকে শহর ছেড়ে দূরে নিয়ে গেল। মিলনের কাছে রয়ে গেল শুধু স্মৃতি আর আফসানার দেয়া শেষ হাসি। সে লিখল এক দীর্ঘ চিঠি— “তুমি যদি ফিরে না আসো, তবে আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব, যতদিন আকাশে তারারা জ্বলতে থাকে।” চিঠিটা আফসানার হাতে পৌঁছাল কি না, তা আর কেউ জানে না। শুধু শহরের নদীর ধারে, মিলনের নিরব চোখ আজও সন্ধ্যার আলোয় খুঁজে ফেরে সেই হারানো ভালোবাসাকে।  

পড়ন্ত বিকেলের ফুল

ছবি
আকাশে সূর্য ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছিল। সোনালি আলো গোধূলির মেঘকে রাঙিয়ে তুলছিল লাল-কমলা রঙে। গ্রামের পাশের সেই ছোট্ট মাঠে দাঁড়িয়ে ছিল তারা দু’জন। চারপাশ নিস্তব্ধ, শুধু বাতাসে দোল খাওয়া ঘাসের মৃদু শব্দ আর দূরের পাখির ডাক। তারা দু’জন দীর্ঘদিনের বন্ধু, অথচ মনে-মনে একে অন্যের জন্য জমে থাকা অনুভূতির কথা কখনো প্রকাশ করা হয়নি। আজ বিকেলটা যেন অন্যরকম—এক অজানা সাহস জমে উঠেছে ছেলেটির হৃদয়ে। হাতে ধরা রঙিন ফুলগুলো কাঁপছিল নার্ভাস স্পর্শে। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল মেয়েটির সামনে। মেয়েটি অবাক হয়ে তাকাল, চোখে এক ঝলক কৌতূহল আর মিষ্টি হাসি। — “এই ফুলগুলো তোমার জন্য…” মেয়েটি ফুলগুলো হাতে নিয়ে মুহূর্তের জন্য কিছু বলতে পারল না। চোখ নামিয়ে আবার তাকাল তার দিকে। বিকেলের আলোতে তাদের চোখ দুটো যেন আটকে গেল এক অদ্ভুত জ্যোতিতে। একে অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকা সেই নীরব মুহূর্তেই মনে হলো, ভাষার প্রয়োজন নেই—চোখের দৃষ্টিই সব বলে দিচ্ছে। হাওয়ায় ফুলের ঘ্রাণ ভেসে এলো, মেয়েটির চুল ছুঁয়ে দিল। সে আলতো করে একটুখানি লাজুক হাসি দিল। আর সেই হাসিতে ছেলেটির মন ভরে গেল অদ্ভুত উষ্ণতায়। সেদিন পড়ন্ত বিকেল শুধু একটি ফুলের আ...

বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের দলীয় পদ স্থগিত: সমসাময়িক রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন

ছবি
 বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের দলীয় পদ স্থগিত: সমসাময়িক রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন ২৬ আগস্ট ২০২৫, ঢাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে তিন মাসের জন্য দলীয় পদ থেকে স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। সম্প্রতি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে দেওয়া তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয় দলীয় উচ্চপর্যায়। কেন স্থগিত করা হলো : ২৪ আগস্ট ফজলুর রহমানকে একটি শোকজ নোটিশ পাঠায় বিএনপি। অভিযোগ ছিল, তাঁর বক্তব্যে “কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর” শব্দচয়ন ছিল, যা দলের ভাবমূর্তি ও ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হেনেছে। তিনি সময় চেয়ে আবেদন করায় ২৫ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু তাঁর চার পাতার লিখিত জবাব দলীয় মহলকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। ফলে ২৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সব পদ — এমনকি প্রাথমিক সদস্যপদও — তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। দলীয় সিদ্ধান্তের পেছনের বার্তা: দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ফজলুর রহমানের অবদানকে সম্মান জানিয়েই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিয়ে আপেক্ষিক দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে টকশো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা যে কোনো বক্তব্যে ...

ভাইরাল ত্রাণ দাতা বর্তমান সময়ের ভাইরাল ট্রেন্ড নিয়ে একটি গল্প)

ছবি
(বর্তমান সময়ের ভাইরাল ট্রেন্ড) "আসসালামু আলাইকুম ভাই ও বোনেরা! আমি এখন একটা অসহায় পরিবারের বাড়িতে এসেছি, যারা দুইদিন ধরে না খেয়ে আছে। আপনারা দেখুন, এই বৃদ্ধাকে দেখুন—এখনো মুখে হাসি রেখে দাঁড়িয়ে আছেন...  মোবাইল ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সরোয়ার এই কথাগুলো বলল, আর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধা অপ্রস্তুতভাবে ঠোঁট চেপে ধরলেন। সরাসরি লাইভ চলছিল। কমেন্ট আসছিল ঝড়ের মতো: “ভাই আপনি দেবতা” “আল্লাহ আপনাকে হায়াত দিন” “আপনার মতো লোকই আসল মানুষ” লাইভ শেষ করে সরোয়ার বৃদ্ধার হাতে একটা প্যাকেট দিলেন। তাতে কিছু চাল, ডাল আর একটি তার চ্যানেলের প্যাম্পলেট। বৃদ্ধা বললেন, “ছেলে, একটা ছবি তোলো না, মেয়েটা ভাববে আমার খবর কেউ রাখে…” সেই বৃদ্ধাকে পাশে বসিয়ে ১০টা ছবি তোলা হলো। বিভিন্ন ক্যাপশন তৈরি হলো— “এক মায়ের কান্না” “ত্রাণ নয়, ভালোবাসা দিতে শিখুন” “যারা সরকারের টাকা খায়, তারা দেখুক এই ভিডিও!” 🔥 ৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভাইরাল ১০ লাখ ভিউ ১ লাখ রিয়্যাকশন কয়েক হাজার শেয়ার পত্রিকায় শিরোনাম: “ত্রাণযোদ্ধা সরোয়ার: সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন নায়ক” সরোয়ার এখন টকশোতে যায়, ইউটিউব থেকে ইনকাম করে, কিছু এনজিওর কাছ থ...

শিরোনাম: শেষ চিঠি

ছবি
চারদিকে নীরবতা। যেন শহরের কোলাহলও আজ ক্লান্ত হয়ে গেছে। সে প্রতিদিন এই বেঞ্চটায় এসে বসে। একদম নির্দিষ্ট সময়ে, বিকেল চারটা। এক কাপ চা হাতে নিয়ে সে তাকিয়ে থাকে সামনের রাস্তার দিকে—যেদিকে কেউ আর ফেরে না। সে মানে—একজন মানুষ, যার নাম আজ আর কেউ উচ্চারণ করে না। তবে একদিন, কেউ ছিল। একজন মেয়ে। যার হাসি ছিল বসন্তের মতো, আর চোখে ছিল একরাশ প্রতিশ্রুতি। তাদের দেখা হয়েছিল একটি বইমেলায়। মেয়েটি বলেছিল, "তুমি কেমন লেখো?" ছেলেটি লজ্জা পেয়ে বলেছিল, "বেদনার মতো।" সেই থেকে শুরু। প্রতিদিন তারা একসাথে হেঁটেছে, গল্প করেছে, স্বপ্ন এঁকেছে। কিন্তু জীবন তো কেবল প্রেমে বাঁধা থাকে না। একদিন খবর এলো—মেয়েটার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। একটা স্থির, নির্ধারিত জীবন তাকে ডেকে নিচ্ছে। সে বিদায় বলতে পারেনি। কেবল একটি চিঠি রেখে গেছে ছেলেটার জন্য: > “তোমার মতো কেউ আর আসবে না, জানি। কিন্তু আমার মতো কাউকে তুমি আর আসতে দিও না, প্লিজ। কারণ তারা যদি একটুও ভালোবাসে তোমাকে, তাদের হৃদয়ও পুড়ে যাবে—আমার মতোই। বিদায়… শেষ চিঠি।” সেই চিঠিটা এখনো ছেলেটা সঙ্গে নিয়ে বেঞ্চে বসে থাকে। যতবার আকাশ মেঘে ঢাকা পড়ে, ...

গল্প: হারিয়ে যাওয়া সেই দিনগুলো

ছবি
গল্প: হারিয়ে যাওয়া সেই দিনগুলো (একটি নিঃশব্দ কষ্টের গল্প) ঘরটা নিঃস্তব্ধ। ঘরটা নিস্তব্ধ জানালার ধারে রাখা একটি কাঠের চেয়ার—সেই চেয়ারে কেউ বসে না বহুদিন। তবু, প্রতি সন্ধ্যায়, ঠিক সূর্য ডুবে যাওয়ার পর এক কাপ চা রাখা হয় সেই চেয়ারের পাশে। যেন কেউ এসে নেবে, হাতে তুলে নেবে কাপটা— কিন্তু কেউ আসে না। ঘরজুড়ে ছড়িয়ে আছে অনেক স্মৃতি, চুপচাপ থাকা অ্যালবাম, যেখানে একজোড়া চোখ আজও হাসে... যার হাসিতে কেউ আর প্রাণ খুঁজে পায় না। একসময় সেই হাসি ছিল কারো জগত, কারো সকাল, কারো সন্ধ্যা। আজ শুধু ছবি। আজ শুধু কাঠের ফ্রেমে বন্দী হয়ে সে মানুষটা থাকে, নিঃশব্দে। তার যাওয়ার দিনটা ছিল এক গভীর শ্রাবণের বৃষ্টি। বৃষ্টি নয়, যেন ভাঙা বুকের কান্না ঝরছিল আকাশ থেকে। হাসপাতালের করিডোরে তখন কেউ দাঁড়িয়ে ছিলো দুটো হাত ভাঁজ করে, ঠোঁট নীরব, আর চোখ—চোখে ছিল প্রশ্ন, “তুমি কি সত্যিই চলে গেলে?” তারপর কেটে গেছে অনেক দিন, তবুও টেবিলের ওপর রাখা থাকে সেই চশমা, যা সে পড়ে গল্প পড়তো চুপচাপ সন্ধ্যায়। আলমারির ভেতর রাখা একটা নীল ওড়না, যেটা এখন আর কেউ গায়ে দেয় না— শুধু মাঝে মাঝে, হঠাৎ করে দরজা খুললে ওড়নার ভাঁজে মিশে থাকা গন্ধটা মনে করিয়ে দেয়— সে...

গল্প: শিরোনামহীন

ছবি
 শিরোনামহীন লেখক : দুঃখী মানুষ। একটি মানুষ ছিল। না, তার কোনো নাম নেই। যেমন নেই সে হাসে, কাঁদে, বাঁচে এমন কাউকে জিজ্ঞেস করার কেউ। সে একটা ঘরে থাকে—একটা ছোট ঘর, চারদিকে দেয়াল, মাথার উপর ছাদের ফাঁক দিয়ে মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ে, আর দেয়ালে ঝুলে থাকা একটা ঘড়ি শুধু সময় গুনে। প্রতিদিন সকালে সে উঠে। কেউ ডাকে না, কেউ জিজ্ঞেসও করে না কেমন ঘুমিয়েছে। সে নিজেই নিজের ঘুম ভাঙায়— আর নিজের ছায়ার সঙ্গেই কথা বলে। বাজারে যায়, রান্না করে, আবার খায়। যখন খায়, তখন খাওয়ার টেবিলের একপাশ ফাঁকা থাকে—যেন কেউ ছিল সেখানে, কোনোদিন। আসলে কেউ ছিল না। সে শুধু ভাবে, "যদি কেউ থাকত?" রাত হলেই ঘরটা আরও চুপচাপ হয়ে যায়। চুপচাপ নয়, যেন নিঃশব্দ চিৎকারে ভরে ওঠে। বাইরের কুকুরের ডাকে তার বুক কেঁপে ওঠে— কারণ সেও জানে, একাকীত্ব কাকে বলে। একদিন সে আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে বলেছিল— "তুই ঠিক আছিস তো?" নিজের প্রতিবিম্বটাও উত্তর দেয়নি। এক রাতে সে হঠাৎ সব লাইট নিভিয়ে দেয়। ঘরের ভেতর শুধু চাঁদের আলো। কাঁধে মাথা রাখার কেউ নেই, কথার জবাব দেওয়ার কেউ নেই, শুধু পুরনো কিছু শব্দ মাথার ভেতর বাজে— "তোমাকে কে চায়?" "তোমার...

ছায়াতীর্থ

ছবি
 গল্পের নাম: ছায়াতীর্থ লেখক: দুঃখী মানুষ সময়: খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ বছর | স্থান: হিমালয়ের এক গোপন উপত্যকা সেই সময় পৃথিবী ছিল কুয়াশায় ঢাকা এক অপার রহস্য। মানুষেরা তখনো শব্দ দিয়ে কথা বলত না—চোখের ভাষা, শরীরের নড়াচড়া, আর প্রকৃতির ইশারাই ছিল তাদের যোগাযোগের উপায়। "আরুয়া" ছিল এক বালিকা—তখনকার এক পর্বতকণ্যা, জন্ম হয়েছিল আকাশ-ছোঁয়া পাথরের নিচে, যেখানে ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে লাগলে আত্মা কেঁপে উঠত। আরুয়া ছিল আলাদা—সে আকাশের তারা গুনত, গাছের কান্না শুনত, আর রাতের ছায়াকে ভয় না পেয়ে ডাকত "ছায়া-মা" বলে। একদিন রাতের ঘন অন্ধকারে, যখন চাঁদ ছিল না, আর আগুন নিভে গিয়েছিল, পাহাড়ি গুহার ভিতরে এক কালো ছায়া এসে দাঁড়াল। সবাই দৌড়ে পালাল, শুধু আরুয়া দাঁড়িয়ে রইল। ছায়াটি বলল না কিছু, শুধু তার চোখদুটো ছিল যেন আকাশের আগুন। আরুয়া হেঁটে গেল তার দিকে। তারপর নিখোঁজ। তিনদিন পর, সে ফিরে এল—চোখে এক আলোর রেখা, কপালে আঁকা এক অদ্ভুত চিহ্ন—❂ তারপর থেকেই সে ভবিষ্যৎ বলতে পারত। সে বলেছিল, — “হাজার বছর পর মানুষ আগুন দিয়ে আকাশে উড়বে। তারা ভুলে যাবে গাছের ভাষা, মাটি ছোঁয়ার আনন্দ, কিন্তু আবারও একদিন ফিরে আসবে ছায়ার কাছে।”...

গল্পের নাম: "তোমার অপেক্ষায়"

ছবি
 গল্পের নাম: "তোমার অপেক্ষায়" শিরোনাম : রোমান্টিক বর্ষার এক নিঃশব্দ দুপুর। শহরের সব রাস্তা যেন ঝিমিয়ে পড়েছে। জানালার পাশে বসে বইয়ের পাতায় চোখ রেখে শায়লা কেবলই অন্যমনস্ক হয়ে পড়ছে। তার চোখ বারবার ছাদে ওঠা সিঁড়ির দিকে চলে যায়। আজ ঠিক পাঁচ বছর আগে এই দিনে, ঠিক এই সময়ে, প্রথম দেখা হয়েছিল ওদের। সেদিনও বৃষ্টি পড়ছিল, আর অরণ্য ছাতাটা শায়লার মাথার ওপরে ধরে বলেছিল, — "ভিজবেন না, একসাথে চলুন।" সেই দিন থেকেই শুরু। ২. শায়লা আর অরণ্য—দুজন দুই ধরনের মানুষ। অরণ্য ছিল হাসিখুশি, চঞ্চল, সবার সঙ্গে মিশে যায়। আর শায়লা—চুপচাপ, নিজের মধ্যে ডুবে থাকা এক মেয়ের নাম। কিন্তু অরণ্যর ছোঁয়ায় শায়লার ভেতরের রঙগুলো ফুটে উঠতে শুরু করে। তারা একসাথে হেঁটেছে বইমেলায়, একসাথে ভাগ করেছে এক কাপ কফি, সন্ধ্যায় ছাদে বসে তারা দেখেছে দূরের আকাশের তারা। — "একদিন যদি আমি না থাকি?" শায়লার এই কথায় অরণ্য হেসে বলেছিল, — "তুমি থাকো কি না থাকো, আমি তো থাকবো। তোমার অপেক্ষায়।" ৩. কিন্তু সময় সবকিছু বদলে দেয়। অরণ্য চলে গিয়েছিল হঠাৎই—বিদেশে পড়তে। একটা বড় স্কলারশিপ পেয়েছিল। আ...

রক্তে লেখা পত্র

ছবি
রাত্রি তখন গভীর। হাসপাতালের করিডোরে পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে শুধু নার্সদের। কিন্তু কেবিন নম্বর ৭১৭-এ বসে এক বৃদ্ধ লোক চুপচাপ তাকিয়ে আছেন জানালার বাইরে। নাম তার সাগর সেন। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার। কিন্তু আজ তার চোখে জল। কারণ, হাতে ধরা সেই চিঠিটি—যা তিনি পেয়েছেন গতকাল, সেটি উল্টে দিয়েছে তার জীবনের সকল বিশ্বাস। চিঠিটি লেখা তার একমাত্র ছেলে, অভীক সেনের হাতে। যাকে তিনি ভেবেছিলেন মৃত—গত পনেরো বছর ধরে। তখন ২০০৯ সাল। সাগরের ছেলে অভীক এক সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয়ে যায়। পুলিশ বহু চেষ্টা করেও তার হদিস পায়নি। শেষে সবাই ধরে নিয়েছিল ছেলেটি বোধহয় অপহরণ বা খুন হয়েছে। কিন্তু বাবা সাগর সেন হার মানেননি। বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত অনুভূতি বলত, "সে বেঁচে আছে, কোথাও না কোথাও!" পনেরো বছর পর, ২০২৪ সালে, এক রক্তমাখা চিঠি ডাকঘরে এসে পৌঁছায়। চিঠিতে লেখা— "বাবা, আমি বেঁচে আছি। আমি এমন এক জায়গায় ছিলাম যেখানে সত্য মিথ্যের চেয়েও বেশি অবিশ্বাস্য। আমি ছিলাম মানব পাচারের জালে বন্দি, ভারত থেকে সুদান পর্যন্ত ঘুরেছি। আমাকে নিয়ে গবেষণা চালানো হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে, তুমি মরে গেছো। আমি পালিয়েছি। আম...

গল্পে: ভালোবাসা নিঃশব্দ বেদনার নাম

ছবি
  গল্পের নাম: ভালোবাসা নিস্তব্ধ বেদনার নাম ধরন: প্রেম ও বেদনার গল্প ভাষা: বাংলা ভালোবাসা নিস্তব্ধ বেদনার নাম ১ এক শহরের পুরনো এক লাইব্রেরি ছিল—"নিসর্গ পাঠাগার"। সময়ের ছাপ তার গায়ে স্পষ্ট। ধুলোপড়া বইয়ের মাঝে বইপোকাদের আনাগোনা কম, তবে প্রতিদিন দুপুরে ঠিক একটা ছায়া এসে পড়ে দক্ষিণের জানালায়। সেই ছায়ায় একজন নিয়মিত পাঠক বসে— অর্পিতা। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, হাতে সবসময় একটা পুরনো ডায়েরি। লেখেন আর আবার কেটে দেন। যেন হৃদয়ের ভেতর থেকে শব্দ খুঁজে বের করে আবার আড়াল করে দেন। ২ অর্পিতার জীবনে হঠাৎ এসে দাঁড়ায় আকাশ একটা কবিতার বই খুঁজতে এসে তার হাতে পড়ে যায় অর্পিতার খোলা ডায়েরির পৃষ্ঠা। লেখা ছিল— "ভালোবাসা কি কেবল শব্দের খেলা? নাকি নিঃশব্দ কান্নার নাম?" আকাশ থমকে গিয়েছিল। অর্পিতা চমকে তাকায়, কিন্তু চোখে রাগ ছিল না। বরং ছিল এক নিঃশব্দ অনুরোধ—"পড়ো, কিন্তু বুঝো না।" ৩ তাদের দেখা হতে লাগলো প্রায়ই। বইয়ের ফাঁকে, চায়ের কাপে, পুরনো কবিতার ভিতর দিয়ে একটুকরো সম্পর্ক জন্ম নিতে থাকলো—নামহীন, অথচ গভীর। অরণ্য হাসতে জানত, অর্পিতা শুনে শুধু চুপ করে থাকত। আকাশ ভালোবাসার কথা বলত, অর্পিতা শ...

একাকীত্ব অন্ধকারে

 একাকীত্ব অন্ধকারে আনিছুর রহমান  গহীন অন্ধকারে, একা হাঁটছিলাম। চারপাশে যেন কোনো শব্দই নেই, শুধুই রাতের কাঁপুনি। হালকা বাতাসের হাওয়ায় পাতারা ছুটছিল, গাছেরা যেন কিছু ছায়া ছড়াচ্ছিল আমার পথের উপর। আমার পায়ের শব্দ একাকীত্বে গুম হয়ে যাচ্ছে, মনে হচ্ছিল আমি একাকী শুধু নয়, আরেক কোনো অদৃশ্য সঙ্গীও আমার সাথে রয়েছে। তখনই আমার বুকের ভিতরটা আতকে উঠলো। হঠাৎ দূরে একটি হালকা আলো জ্বলতে দেখলাম। আলোটা ধীরে ধীরে কাছে আসছিল, আর আমি অজান্তে সেই দিকে এগোতে শুরু করলাম। লাইটের উৎস দেখতে পেতেই মনে হল, কেউ ছোট্ট একটি বাতি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখটা অস্বচ্ছ, কিন্তু চোখগুলো যেন গভীর বিষণ্ণতায় ভরা। আমি থমকে গেলাম, বললাম, “আপনি কে? কেন এদিক থেকে এসেছেন?” সে একটু হাসল, “আমি পথ হারিয়েছি,  ঠিক তোমার মতোই। আমাদের দুজনের চোখে অন্ধকারের মাঝে মিশে থাকা সেই নিস্তব্ধতা খেলা করছিল। তারপর সে ধীরে ধীরে বলল, “ এই গহীন রাতেও, একাকিত্বের ভেতর থেকেও আমরা কেউ না কেউ একসাথে থাকি। তোমার ভয় পেতে হবে না।” আমার হৃদয় একটু শান্ত হল, আর আমি সেই অন্ধকার পথে তার পাশে হাঁটতে থাকলাম। হয়তো গহীন অন্ধকারটাই নয়, আমাদের ভেতরের এক...